Tuesday, March 16, 2010
যন্ত্রণার শব্দ
বইপাড়া, বইমেলা ঘুরে ঘুরে ফেরে ছেলেটি।
এবার জন্মদিনে বাবাকে চমকে দেবে উপহার দিয়ে
বই পেলে সব চেয়ে খুশি হন বাবা তার।
এ বই, ও বই – চষে ফেলে, পড়ে দেখে
পাতা উলটে, সূচিপত্র ঘাঁটে।
কোন বই সেই অদ্ভূত তৃপ্তির হাসিটি ফোটাবে
বাবার শান্ত গম্ভীর মুখে?
পড়তে শেখার আগে থেকে বাবার শোনানো
সেই সব গল্প মনে ঘোরে –
লিট্ল্ প্রিন্স, এন্শিয়েন্ট মেরিনার, সুকুমার রায়,
উপেন্দ্রকিশোর, হল্দে পাখির পালক,
লীলা মজুমদার – আরো কত কী...
খুঁজে খুঁজে তাই বই কিনে যায় ছেলেটি
আজ বাবাকে চমকে দেবে, আজ তুলে দেবে
তার পছন্দের এমন বই, যা
ফুটিয়ে তুলবে বাবার শান্ত মুখে সেই হাসি –
যার অপেক্ষায় সে এতোদিন ধ’রে বড় হয়েছে।
বাবার পছন্দসই বই হওয়া চাই।
কী বই? রাজনীতি, ইতিহাস বা সাহিত্যই
হ্যাঁ, বাবাই তো শিখিয়ে ছিলেন বাক্যরচনা
যা শুধু বাক্য নয়, যাতে থাকে সাহিত্যের দানা
রচনা লেখার হাত ধ’রে বাবার কাছে
গল্প লেখার মজা, ছন্দের কারিকুরি
বাবার কাছে তার ছবি আঁকা বিরাট বিস্ময়
জায়গা পেয়েছে কতবার দেওয়ালে
যেন সে পেয়েছে বড় শিল্পীর পরিচয়!
বাবার জন্মদিনে আজ দেবেই দেবে
সেই সেরা বইটি – ছেলেটি
মুচকি হেসে বলবে, ‘বাবা, তোমার প্রিয় উপহার’।
নীল হয়ে যাওয়া গভীর ক্ষত
সযত্নে লুকিয়ে রাখে
বুকের ভিতর ছেলেটি
বোবা বেদনার অগ্নিশলাকা বেঁধে তিক্ষ্ণ শব্দে,
‘বাবা, তুমি কি এখনও ঐ ছবির ফ্রেমেই আটকে থাকবে?
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
মা, এগুলো একদম আমার মনের কথা... খুব ভাল লিখেছ।
ReplyDelete