টাঙ্গা থেকে যেখানে নামলুম, সেখানে ঝকঝকে প্রবেশদ্বার, সে আলোর কিছু অংশ এদ্দুরেও আসছিল। এখানে এই ধূসর অন্ধকারে কেউ না কেউ, কোন ভিখিরীই হবে বা নিশ্চয়ই, টেনে টেনে গান গাইছিল, মুঝে একঠো পয়সা দেও মালিক, তুম রাজা বনেগা। চারিদিকের হৈ হল্লা, বাস, টাঙ্গা, রিকশা ও ছেলেমেয়েদের কলরব, খাবারের দকানগুলোর থেকে আছড়ে পড়া হুল্লোড় এতোসবের মধ্যে, যেন সে গাইছিলই না এত ধূসর নরম ছিল তার সেই সংগীত, কোন ভিখিরীই নিশ্চয়ই? আমাদের সামনে মহলরাজ তাজমহল। আর এখানে, হাঃ হা, এখানেই কিনা কেউ না কেউ ঘ্যানঘ্যানে সুরে গেয়ে যাচ্ছে মাত্র একটা পয়সার জন্যে আর কতো ক্লান্ত স্বরে। বস্তুতঃ জীবন সম্পর্কে আমাদের কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন তাসের চার রাজা ও দাবায় এক, এর বাইরে কোন রাজাকে আমরা ভালবাসব কিনা।
আর সিদ্ধান্ত নিতে হবে বেশ্যা সম্পর্কে। এক্জিবিশান দেখে পার্ক স্ট্রীট থেকে, দশটা আর এমন কি রাত, এস্প্ল্যানেড পর্যন্ত হেঁটেই আসছিলাম। বাসের জন্যে অপেক্ষমান মনে হয় সে যুবতীকে, কী ব্যাকুলতা নিয়ে চওড়া অভিজাত রাস্তায় সে জন্তু খুঁজছিল, প্রকাশ্যেই নিলাম হেঁকে গেল কেউ কেউ। সে যখন মাত্র হাতচারেক তফাতে, সেই বাসের জন্য অপেক্ষমানা যুবতী, আমরা তার ঘোলাতে নিস্প্রভ চাউনি দেখতে পাই। সে অসুস্থ ছিল। এবং ল্যাম্পপোস্টে ঠেস না দিয়ে সে দাঁড়াতে পারছিল না। হায়রে, দাঁড়ানোটা ছিল তার কাছে কত জরুরি। এখন কথা থাকে এই যে, আমরা তার জন্য উজ্জ্বলতর ল্যাম্পপোস্ট বানাব কিনা। অর্থাৎ বেশ্যার জন্যে।
আমাদের তৃতীয় সিদ্ধান্ত ঈশ্বর সম্পর্কে। আজ অবহেলায় শুয়ে আছেন আমার পিস্তুতো দাদা, ব্রেন টিউমার যাকে বোস্ ইন্স্টিটিউটের সম্ভাব্য রীডার পদ থেকে অবশেষে ক্লান্তিকর ও অপ্রয়োজনীয় বস্তুতে পরিণত করেছে। আধুনিকতম চিকিৎসার পর (চাঁদে মানুষ নেমেছে নাকি? খোঁজ রাখিনা) অসীম শূন্যতা ছাড়া আমাদের আর কিছু আঁকড়ে ধরার নেই। মৃত্যু তাঁকে দ্রুত স্বস্তি দিক। অথবা ঈশ্বর। কিন্তু কেন? ঈশ্বরই বা কেন? তাহলে কি মুণ্ডুতে সর্পাঘাত হলে তবেই ঈশ্বরকে স্বীকৃতি দেব?
...পৃথিবীর যাবতীয় ক্ষমতা-দ্বন্দে কোন ঔৎসুক্য নেই। গরমকালে ট্রেনে বাতাস খাওয়ার জন্যে আর শীতকালে সোয়েটার শুকোনোর জন্যে বছরের পর বছর খবরের কাগজ রেখে চলেছি।











