বন্ধুর পথ জানিনি কখনও
বন্ধুর পথে হাঁটিনি
তবুও সে পথ জীবনে এলো।
স্কুলের পরীক্ষায় কঠিন প্রশ্নের উত্তর লিখতে বেছে নিতাম
সবার থেকে আলাদা হবে ব’লে।
তাই কি এবারও বেরিয়ে এলাম কঠিন পথের আকর্ষণে!
বন্ধুর পথের চড়াই উতরাই
সাহস নিয়ে হেঁটেছি, পেয়েছি শক্তি
পথের কষ্টের কথা ভুলে গেছি
মনে আছে শুধু পার হওয়ার আনন্দ।
পেলব জীবন টানেনি কখনও
টেনেছে কোনির লড়াই
তাই প্রাণ ভ’রে দম নিয়ে নিয়ে
উঠেছি জীবনের চড়াই।
বন্ধুর পথ দুর্গম হয়নি
ছিল সে যখন পাশে
পথের পাশের ফুলেরা সব
রডোডেনড্রন হ’য়ে হাসে।
হাঁফ ধ’রে আসা বন্ধুর পথে
নিয়েছি পভীর নিশ্বাস –
হাত বাড়ালেই পেয়েছি যে তার
বলিষ্ঠ হাতের আশ্বাস।
বন্ধুর পথে হেটেছি অনেক
পিছিয়ে যাইনি ভয়ে
আজ মনে হয় আরো চড়াই
দম যাবে না তো ফুরিয়ে?
সাথী আজ সাথে তো নেই
সামনে আছে দুস্তর পথ –
শ্রান্ত হয়ে পড়ে যদি যাই
কোথা পাব আর দৃঢ় সে হাত?
Sunday, April 11, 2010
কথা তুমি রাখনি
বৃষ্টিভেজা ময়দানে হেঁটেছিলাম,
পাশাপাশি দুজনে
মাঝরাতে কৌঁশি কানাড়া, টোড়ি,
পাশাপাশি দুজনে।
সত্যজিৎ, ঋত্বিক, মৃণাল দেখে
ফিরেছি চিনেবাদাম হাতে,
বইপাড়া, যাদুঘর, আকাদেমির নাটক
ব্রিটিশ কাউন্সিল বা ‘জু’-তে
হাতে হাত রাখিনি, চোখে চোখ,
তবু সব কথা রেখেছিলে।
কথা তো বলেনি ঠোঁট
বলেছে হৃদয়, চোখ...
উত্তর লেখা হয়ে রয়েছে সব
গভীর গোপন বুকে
অনুভবে গান, অনুভবে প্রাণ
ভালোবাসা ভালোবাসা বলে লোকে।
সব কথা রেখেছিলে, অথবা
রাখোনি ওটুকু, আরো বেশি ভেবেছিলে
জ্বর ছিল, ঘাম ছিল, পথশ্রম, তবু
এক পায়ে আপেক্ষা করেছিলে।
দমকা কালবৈশাখী ঝড়
উথালপাথাল ঢেউ...
ছেলেবেলার শিরশিরে ভয়
পরীক্ষার আগে যেমন তেমন!
না চেনা অসুখ, না জানা কামড়
বোবা বিহ্বলতা, ঘিরে থাকা ঘোর-
আকুলি বিকুলি যন্ত্রণা,
হতচকিত, অসহায় বিস্ময়
কী কষ্টে ভাষাহীন চোখ তোমার!
কথা তুমি রাখোনি -
কথা তুমি রাখোনি
কথা তুমি... ।
৩রা মে, ২০০৮
পাশাপাশি দুজনে
মাঝরাতে কৌঁশি কানাড়া, টোড়ি,
পাশাপাশি দুজনে।
সত্যজিৎ, ঋত্বিক, মৃণাল দেখে
ফিরেছি চিনেবাদাম হাতে,
বইপাড়া, যাদুঘর, আকাদেমির নাটক
ব্রিটিশ কাউন্সিল বা ‘জু’-তে
হাতে হাত রাখিনি, চোখে চোখ,
তবু সব কথা রেখেছিলে।
কথা তো বলেনি ঠোঁট
বলেছে হৃদয়, চোখ...
উত্তর লেখা হয়ে রয়েছে সব
গভীর গোপন বুকে
অনুভবে গান, অনুভবে প্রাণ
ভালোবাসা ভালোবাসা বলে লোকে।
সব কথা রেখেছিলে, অথবা
রাখোনি ওটুকু, আরো বেশি ভেবেছিলে
জ্বর ছিল, ঘাম ছিল, পথশ্রম, তবু
এক পায়ে আপেক্ষা করেছিলে।
দমকা কালবৈশাখী ঝড়
উথালপাথাল ঢেউ...
ছেলেবেলার শিরশিরে ভয়
পরীক্ষার আগে যেমন তেমন!
না চেনা অসুখ, না জানা কামড়
বোবা বিহ্বলতা, ঘিরে থাকা ঘোর-
আকুলি বিকুলি যন্ত্রণা,
হতচকিত, অসহায় বিস্ময়
কী কষ্টে ভাষাহীন চোখ তোমার!
কথা তুমি রাখোনি -
কথা তুমি রাখোনি
কথা তুমি... ।
৩রা মে, ২০০৮
Thursday, April 8, 2010
দাউদাউ আগুন
দাউদাউ আগুন জ্বলে
আমার বুকের ভিতর,
জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যায়
হৃদয়, মন, বুকের পাঁজর।
আগুন ক্রোধে, আগুন শোকে,
আগুন নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে;
আগুন ঝরে চোখের জলে,
আগুন আগুন কথা থাকে সব বুকে।
আগুন হলকা ছড়িয়ে পড়ে জঙ্গলে --
গোটা গোটা মৃত মানুষ পড়ে থাকে
পথের পরে, উপুড় হ’য়ে।
আগুন, আগুন, জ্বালিয়ে দিল
আমার বুকের ভিতর-বার;
আগুনে ছারখার বস্তির সব পরিবার
পড়ে থাকে ছত্রখান ছেঁড়া কাঁথা
বাসন-কোসন-খেলনা, জানিনা কার।
আগুন ট্রেনের চাকায় ঘোরে --
আগুন ট্রেনের কামরায়
জ্বলেপুড়ে কাঠ হ’য়ে
দাঁড়িয়ে থাকে পোড়া মানুষ দরোজায়
শক্ত হাত তার বাড়িয়ে দেওয়া সামনে,
যেন বা এখনি সে নেমে যাবে – এখানে।
গনগন করছে আগুন বিদ্বেষে
আগুন দিল্লি, মুম্বাই, গুজরাটে;
পুড়েপুড়ে শেষ হয়ে গেল
প্রেম, পরিণয়, স্বপ্ন, সংসার;
সুনামি, আইলা, টর্নেডো, ঘুর্ণি –
মানুষ মরে চলে বারবার, বারবার।
আগুন তোমার কি বিরাম নেই
কাজ শুধু জ্বালাবার ?
আর কত জ্বলবে মানুষ
কত কোল খালি হবে মা–বাবার ?
দাউদাউ জ্বলেছে ট্রাইডেন্ট, জ্বলেছে তাজ
হাহা করে পুড়ছে পার্ক স্ট্রিট,
স্টিফেন কোর্ট আজ।
আগুনের কোনও বাছবিচার নেই –
রক্তবর্ণ লেলিহান শিখা দাপিয়ে বেড়ায়
ছাই ক'রে দেবে সব এখানেই।
হাউহাউ কান্না, আর্তনাদ দহনে
আগুন জীবনে, আগুন মরণে।
আগুন নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি স্টিফেন কোর্টে
পাঁচতলার বারান্দার কিনারে,
ঠিক যখন টের পাই আগুনের গরম নিঃশ্বাস,
বাঁচবার তাগিদে তখনই ঝাঁপ দিই
মৃত্যুর নিশ্চিত গহ্বরে।
২৬ মার্চ, ২০১০
আমার বুকের ভিতর,
জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যায়
হৃদয়, মন, বুকের পাঁজর।
আগুন ক্রোধে, আগুন শোকে,
আগুন নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে;
আগুন ঝরে চোখের জলে,
আগুন আগুন কথা থাকে সব বুকে।
আগুন হলকা ছড়িয়ে পড়ে জঙ্গলে --
গোটা গোটা মৃত মানুষ পড়ে থাকে
পথের পরে, উপুড় হ’য়ে।
আগুন, আগুন, জ্বালিয়ে দিল
আমার বুকের ভিতর-বার;
আগুনে ছারখার বস্তির সব পরিবার
পড়ে থাকে ছত্রখান ছেঁড়া কাঁথা
বাসন-কোসন-খেলনা, জানিনা কার।
আগুন ট্রেনের চাকায় ঘোরে --
আগুন ট্রেনের কামরায়
জ্বলেপুড়ে কাঠ হ’য়ে
দাঁড়িয়ে থাকে পোড়া মানুষ দরোজায়
শক্ত হাত তার বাড়িয়ে দেওয়া সামনে,
যেন বা এখনি সে নেমে যাবে – এখানে।
গনগন করছে আগুন বিদ্বেষে
আগুন দিল্লি, মুম্বাই, গুজরাটে;
পুড়েপুড়ে শেষ হয়ে গেল
প্রেম, পরিণয়, স্বপ্ন, সংসার;
সুনামি, আইলা, টর্নেডো, ঘুর্ণি –
মানুষ মরে চলে বারবার, বারবার।
আগুন তোমার কি বিরাম নেই
কাজ শুধু জ্বালাবার ?
আর কত জ্বলবে মানুষ
কত কোল খালি হবে মা–বাবার ?
দাউদাউ জ্বলেছে ট্রাইডেন্ট, জ্বলেছে তাজ
হাহা করে পুড়ছে পার্ক স্ট্রিট,
স্টিফেন কোর্ট আজ।
আগুনের কোনও বাছবিচার নেই –
রক্তবর্ণ লেলিহান শিখা দাপিয়ে বেড়ায়
ছাই ক'রে দেবে সব এখানেই।
হাউহাউ কান্না, আর্তনাদ দহনে
আগুন জীবনে, আগুন মরণে।
আগুন নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি স্টিফেন কোর্টে
পাঁচতলার বারান্দার কিনারে,
ঠিক যখন টের পাই আগুনের গরম নিঃশ্বাস,
বাঁচবার তাগিদে তখনই ঝাঁপ দিই
মৃত্যুর নিশ্চিত গহ্বরে।
২৬ মার্চ, ২০১০
Subscribe to:
Posts (Atom)