এই আমার ইস্কুল, এই আমার বাড়ি
এইখানে খেলা তোমাদের ভাব-ভাব, আড়ি-আড়ি।
এই গেট, এই মাঠ, এই করিডোর
আমাকে চেনে এ বাড়ির সঅব ক’টি ঘর।
ফুলের বাগান নেই, তবু নারকেল, আম, দেবদারু
দু’ধারে আছে অর্জুন আন্দ কৃষ্ণচুড়া তরু।
সবুজ ঘাসের উপর দোয়েল, চড়ুইয়ের ওড়াওড়ি –
এই মাঠে খেলা ওদের ভাব-ভাব, আড়ি-আড়ি।
তিনতলার ক্লাস টেন-এ, কবিতার ক্লাসে
চোখ পড়ে জানলার পাশে শিমুলের ডালে
পাখির বাসায় কিচমিচ, জানলা দিয়ে উঁকি
পাখির ছানা দেখতে গিয়ে পড়াশুনো ফাঁকি
ঝমঝমে বৃষ্টি এঁকে দেয় চমৎকার ছবি
চোখ থাকলে হতে পার প্রকৃতির কবি।
বসন্তে যখন কোণের কৃষ্ণচূড়া লাল ধ্বজা ওড়ায়,
বাগানে গেয়ে ওঠে কোকিল –
মন উন্মনা হয়ে যায়...
মেয়েদের পড়াতে পড়াতে একেবারে ভুলিনা
কংক্রিট শহরের ধারে থেকে
এ আমাদের কতো বড়ো পাওনা।
এই আমার ইস্কুল, আমার আনেক কালের বাড়ি
এইখানে রোদ বৃষ্টি খোলাহাওয়ার জড়াজড়ি।
পরীক্ষার হলে ডিউটি দিতে দিতে
যখন সুযোগ মেলে স্কুলের মাঠ,
গাছপালা তাকিয়ে দেখার,
তখনই একদিন দেখি দুটো উজ্জ্বল নীল রঙের
কাঠঠোকরা পাখি
গাছে মাঠে উড়ে উড়ে লুকোচুরি খেলছে।
আবার একদিন বৃষ্টিভেজা মাঠের মধ্যে দিয়ে
এঁকেবেঁকে চ’লে গেল দাঁড়াশ সাপ
কাউকে কিছু না ব’লে
রোদ চকচকে বিকেলে
ঘাসে পাতায় জলে।
এই আমার ইস্কুল সহজ সবুজে ঘেরা সুন্দর
এইখানে প্রাণভ’রে শুনি মেয়েদের কলরব।
একবার এত আমের মুকুল হল,
ক্লাস নাইনের বারান্দা গন্ধে ম’ম’
অপূর্ব গন্ধে মন মাতাল –।
আবার একদিন বিকেলের কালবৈশাখীতে
কালো ঝড়ে নেমে ইস্কুলের উঠোনে
ঢুপঢাপ আম পড়ে, কুড়িয়ে নে!
এ কোন আনন্দ, এ কোন দেশ?
এ আমার ইস্কুল, ভালো লাগে বেশ।
মেয়েদের হুড়োহুড়ি, মেয়েদের বকাঝকা,
মেয়েদের হাসিমুখ, মেয়েদের ব্যাথা,
মেয়েদের খেলাগান, মেয়েদের উচ্ছলতা,
অভিমানে জল-চোখ, শাস্তি পাওয়া,
তবু হাসি নিষ্পাপ, দিদিমনি বলা –
অরাই রেখেছে সুন্দর ক’রে আমার জীবন চলা।
এই আমার ইস্কুল, এইখানে রোজ আসা-যাওয়া
ইংলিশ মিস হ’য়ে অনেক অনেক কিছু পাওয়া।।
৫ই মে, ২০০৮
Tuesday, March 23, 2010
Thursday, March 18, 2010
আমার অস্কার
“দিদি, আপনি এখানে?”
বাস থেকে নেমে পড়ে হঠাৎ প্রণাম করে মেয়েটি।
“আরে, তুমি ... হ্যাঁ, এইচ, এস্, কোন ব্যাচ যেন?”
মনে মনে নামটা হাতড়াতে থাকি ...
“কী করছো এখন, বল”।
“দিদি আমি সোমা – ইতিহাসে এম, এ, করছি।
আপনার ইংলিশ কবিতার ক্লাস খুব মিস করি।”
“তাই বুঝি?”
“দ্য লিস্নারস্ পড়ানোর সময় কী অদ্ভূত একটা পরিবেশ তৈরী করতেন আপনি। আপনার সব কটা ক্লাস
আমাদের মনে দাগ কাটত ...
কখনও ভুলতে পারব না।”
অবাক আমি, স্পেলবাউন্ড!
হঠাৎ করে এতো পাওয়া
এতো এক দারুণ উপহার
ছাত্রীর দেওয়া।
পড়াশুনোয় দারুণ রেজাল্ট করা মেয়ে ছিল না সোমা
কিন্তু তার উজ্জ্বল চোখ আর বুদ্ধিদীপ্ত ঝলমলে
মুখখানি ছিল আমার মনের আয়নায়।
আজ টের পেলাম, তার অনুভবের গভীরতা ও তীক্ষ্ণতা –
আমার নিজেকে উজাড় করে দিয়ে পড়ানো
ওর মনে স্থান পেয়েছে চিরস্থায়ী ভাবে।
ঠিক করলাম আজ এই সুন্দর উপহারটা
সাজিয়ে রাখব উপরের তাকে।
সেই ছাত্রী আজ আমার সহকর্মী
ইতিহাসের দিদিমনি
আরো কাছে এসেছে, শ্রদ্ধা, ভালোবাসার সঙ্গে
এখন মিশেছে বন্ধুত্ব।
জন্মগত মাতৃত্ববোধে আরো আপন
হয়ে উঠেছে সে আমার কাছে।
চেষ্টা না করেও হয়ে উঠি
ওর সুখ দুঃখের অংশীদার
ভাবি সেই ছোট্ট মেয়েটির সংসার জীবনের নানান সমস্যায়
যদি যেতে পারি ওর মায়ের জায়গায়।
কষ্ট পাওয়া কোন একদিনের ঘটনায় সোমা
জড়িয়ে ধরে বলেছিল –
দিদি, আপনাকে দেখি মায়ের মতো।
এই পুরস্কারটাও সোমা আমাকে দিল,
সাজিয়ে রেখেছি বুকের উপরের তাকে।
সেদিন আমি স্কুলে যাইনি,
বড় বেদনা আহত মন;
গভীর গোপন ব্যাথা, নীল হয়ে যাওয়া ক্ষত
ফোন বেজে উঠল –
“দিদি আমি সোমা বলছি –
আপনি আজ কেন আসেননি, আমি জানি –
দিদি আপনি কষ্ট পাবেন না –
নিজেকে একদম একা ভাববেন না।
... হ্যালো ... হ্যালো ... ?”
“হ্যাঁ, সোমা, শুনছি –”
“দিদি আপনাকে কষ্ট পেতে দেখতে চাইনা আমরা
আপনার আন্তরিক ভালবাসা আর শিক্ষায়
বড় হয়ে ওঠা আপনার ছাত্রীরা।
দিদি, আপনি তো সফলতম স্ত্রী ছিলেন ...
তবে কেন কষ্ট পাচ্ছেন আজকের দিনে?”
ঝরঝর করে কথা বলে যায় সোমা।
“দিদি, আপনি আজ সফলতম মা।
আপনার ছেলেরা ...
হ্যালো, দিদি, শুনতে পাচ্ছেন ...
আজ বলছি,
আপনি সফলতম শিক্ষিকাও।
আপনার অনুপ্রেরণার ভঙ্গী, ছাত্রীদের ভালোবাসা,
ছোট্ট মনগুলোকে আঘাত না ক’রে বকা
আর প্রাণ ভ’রে পড়ানো
আপনাকে সফলতম শিক্ষিকা করেছে।"
কী বলছিস সোমা?
তুই সেই বুদ্ধিদীপ্ত উজ্জ্বল চোখের
ছোট্ট সাধারণ মেয়েটি?
এতো তোর অনুভবী মন,
এতো গভীরতা?
তুই আজ আর আমার কেয়ে নোস,
তুই আজ আমার মা,
মুছিয়ে দিয়েছিস চোখের জল
আর যতো যাতনা।
উপহার নয় রে সোমা
তুই আমাকে অস্কার বা
নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করেছিস।
কোথায় রাখব তোর দেওয়া
এই তিনটি সোনার মেডেল?
মেডেলে সোনা থাকে, কিন্তু
থাকে কি এমন বুকচেরা ভালবাসা?
তাই তো এ আমার কাছে
সবচেয়ে সেরা পুরস্কার।
আর সব উপহার, পুরস্কারের পাশে
সাজিয়ে রাখব, সোমা,
তোমার দেওয়া তিনটি স্বর্ণকমল
আমার বুকের তাকে;
চিরকাল যা থাকবে ঝলমলে উজ্জ্বল
আর আমার মনকে করে রাখবে
ভোরের ঝকঝকে সকাল।
২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০
বাস থেকে নেমে পড়ে হঠাৎ প্রণাম করে মেয়েটি।
“আরে, তুমি ... হ্যাঁ, এইচ, এস্, কোন ব্যাচ যেন?”
মনে মনে নামটা হাতড়াতে থাকি ...
“কী করছো এখন, বল”।
“দিদি আমি সোমা – ইতিহাসে এম, এ, করছি।
আপনার ইংলিশ কবিতার ক্লাস খুব মিস করি।”
“তাই বুঝি?”
“দ্য লিস্নারস্ পড়ানোর সময় কী অদ্ভূত একটা পরিবেশ তৈরী করতেন আপনি। আপনার সব কটা ক্লাস
আমাদের মনে দাগ কাটত ...
কখনও ভুলতে পারব না।”
অবাক আমি, স্পেলবাউন্ড!
হঠাৎ করে এতো পাওয়া
এতো এক দারুণ উপহার
ছাত্রীর দেওয়া।
পড়াশুনোয় দারুণ রেজাল্ট করা মেয়ে ছিল না সোমা
কিন্তু তার উজ্জ্বল চোখ আর বুদ্ধিদীপ্ত ঝলমলে
মুখখানি ছিল আমার মনের আয়নায়।
আজ টের পেলাম, তার অনুভবের গভীরতা ও তীক্ষ্ণতা –
আমার নিজেকে উজাড় করে দিয়ে পড়ানো
ওর মনে স্থান পেয়েছে চিরস্থায়ী ভাবে।
ঠিক করলাম আজ এই সুন্দর উপহারটা
সাজিয়ে রাখব উপরের তাকে।
সেই ছাত্রী আজ আমার সহকর্মী
ইতিহাসের দিদিমনি
আরো কাছে এসেছে, শ্রদ্ধা, ভালোবাসার সঙ্গে
এখন মিশেছে বন্ধুত্ব।
জন্মগত মাতৃত্ববোধে আরো আপন
হয়ে উঠেছে সে আমার কাছে।
চেষ্টা না করেও হয়ে উঠি
ওর সুখ দুঃখের অংশীদার
ভাবি সেই ছোট্ট মেয়েটির সংসার জীবনের নানান সমস্যায়
যদি যেতে পারি ওর মায়ের জায়গায়।
কষ্ট পাওয়া কোন একদিনের ঘটনায় সোমা
জড়িয়ে ধরে বলেছিল –
দিদি, আপনাকে দেখি মায়ের মতো।
এই পুরস্কারটাও সোমা আমাকে দিল,
সাজিয়ে রেখেছি বুকের উপরের তাকে।
সেদিন আমি স্কুলে যাইনি,
বড় বেদনা আহত মন;
গভীর গোপন ব্যাথা, নীল হয়ে যাওয়া ক্ষত
ফোন বেজে উঠল –
“দিদি আমি সোমা বলছি –
আপনি আজ কেন আসেননি, আমি জানি –
দিদি আপনি কষ্ট পাবেন না –
নিজেকে একদম একা ভাববেন না।
... হ্যালো ... হ্যালো ... ?”
“হ্যাঁ, সোমা, শুনছি –”
“দিদি আপনাকে কষ্ট পেতে দেখতে চাইনা আমরা
আপনার আন্তরিক ভালবাসা আর শিক্ষায়
বড় হয়ে ওঠা আপনার ছাত্রীরা।
দিদি, আপনি তো সফলতম স্ত্রী ছিলেন ...
তবে কেন কষ্ট পাচ্ছেন আজকের দিনে?”
ঝরঝর করে কথা বলে যায় সোমা।
“দিদি, আপনি আজ সফলতম মা।
আপনার ছেলেরা ...
হ্যালো, দিদি, শুনতে পাচ্ছেন ...
আজ বলছি,
আপনি সফলতম শিক্ষিকাও।
আপনার অনুপ্রেরণার ভঙ্গী, ছাত্রীদের ভালোবাসা,
ছোট্ট মনগুলোকে আঘাত না ক’রে বকা
আর প্রাণ ভ’রে পড়ানো
আপনাকে সফলতম শিক্ষিকা করেছে।"
কী বলছিস সোমা?
তুই সেই বুদ্ধিদীপ্ত উজ্জ্বল চোখের
ছোট্ট সাধারণ মেয়েটি?
এতো তোর অনুভবী মন,
এতো গভীরতা?
তুই আজ আর আমার কেয়ে নোস,
তুই আজ আমার মা,
মুছিয়ে দিয়েছিস চোখের জল
আর যতো যাতনা।
উপহার নয় রে সোমা
তুই আমাকে অস্কার বা
নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করেছিস।
কোথায় রাখব তোর দেওয়া
এই তিনটি সোনার মেডেল?
মেডেলে সোনা থাকে, কিন্তু
থাকে কি এমন বুকচেরা ভালবাসা?
তাই তো এ আমার কাছে
সবচেয়ে সেরা পুরস্কার।
আর সব উপহার, পুরস্কারের পাশে
সাজিয়ে রাখব, সোমা,
তোমার দেওয়া তিনটি স্বর্ণকমল
আমার বুকের তাকে;
চিরকাল যা থাকবে ঝলমলে উজ্জ্বল
আর আমার মনকে করে রাখবে
ভোরের ঝকঝকে সকাল।
২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০
Wednesday, March 17, 2010
ভালবাসা
ভালবাসা দিয়ে কি সব কিছু জয় করা যায়?
শুধু মানুষকে ভালবেসে
সুন্দরকে ভালবেসে
কর্তব্যকে ভালবেসে
অসহায়কে ভালবেসে?
ভালবেসে সব কিছু জয় করা যায়
ভালবেসে পাহাড় ডিঙোনো যায়
ভালবেসে সমুদ্র সাঁতার –
ভালবেসে হিমালয় –
ভালবেসে পড়া, ভালবেসে গান
ভালবেসে আঁকা আকাশ বাতাস
ভালবেসে ভুলে যাই যতো হাহুতাশ!
ভালবাসা শেষ কথা এ জীবনে বাঁচবার –
ভালবাসা শত্রু স্বার্থপরতার –
ভালবাসা বন্ধু মনের শান্তির
ভালবাসা আনে মৃত্যু প্রশান্তির –
ভালবাসা ধুয়ে দেয় সব মলিনতা
ভালবাসা পৌঁছে দেয় মঙ্গলবার্তা।
আরো একটা বছর
আরো একটা বছর...
আরো একটা বছর...
কেটে গেল তোমাকে ছাড়া।
তোমাকে ছাড়া?
মনে আসতে দিইনি সে কথা একবারও
শিরশিরে ভয়, মনে করতে ভয়
জোর করে ভুলে থেকেছি
শক্ত করে মুখ চেপে ধরেছি
শুকিয়ে ফেলেছি সব চোখের জল।
না হলে চলবে না হৃদয়ের ধুকপুক,
চলবে না অবশ দুটো পা
চলবে না হাত, মাথা, মন
ব্যর্থ হয়ে যাবে শিশুদের জীবন।
কেমন করে স্তব্ধ হল তোমার হৃদয়ের শব্দ?
বোবা বেদনার অগ্নিশলাকা বেঁধে
বুকের ভিতর দিন রাত অবিরত
কেটে যায় সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যে যত।
কেটে যায় আরো আরো বছরের
প্রতিটি মুহূর্ত, পল
তোমাকে ছাড়া।
তোমার জন্যই সব ছাড়া –
সব ছেড়ে ঝাঁপ দেওয়া,
তোমার জন্যই দীর্ঘ রাস্তা হাঁটার ভরসা,
তোমার জন্যই সন্ধ্যেবেলা নাটক দেখা,
তোমার জন্যই জীবনযুদ্ধের পাঠ নেওয়া,
তোমার জন্যই সবহারাদের চোখ চেয়ে দেখা,
তোমার জন্যই সারারাত সেতার, সরোদ শোনা,
তোমার জন্যই ঋত্বিক, মৃণাল আলোচনা করা।
আজও সব আছে –
সিনেমা, নাটক, গান, বই পড়া
তবু কিছু নেই... কিছু নেই...
শুধু কেটে যায় সব কটা দিন, রাত
তোমাকে ছাড়া।
গান তো গাইনি আমি কতদিন-ই
আঁকিনি ছবি, লিখিনি কিছুই
অভিমান জমা থাকে সব বুকের কোটরে
মাঝে মাঝে কেন যে চোখের জল ঝরে...
আর কতোদিন ভুলে থাকব এই চরম সত্য?
কাছে থাকো, পাশে থাকো
এ ঘরে, ও ঘরে থাকো
আমাদের দেখে রেখো আগেকার মতো।
থাকবে তো আমার পাশে
আগের মতো ঠিক?
সেই যখন প্রথম ভালবেসেছিলে?
ইতি তোমার টিপ।
২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০
আরো একটা বছর...
কেটে গেল তোমাকে ছাড়া।
তোমাকে ছাড়া?
মনে আসতে দিইনি সে কথা একবারও
শিরশিরে ভয়, মনে করতে ভয়
জোর করে ভুলে থেকেছি
শক্ত করে মুখ চেপে ধরেছি
শুকিয়ে ফেলেছি সব চোখের জল।
না হলে চলবে না হৃদয়ের ধুকপুক,
চলবে না অবশ দুটো পা
চলবে না হাত, মাথা, মন
ব্যর্থ হয়ে যাবে শিশুদের জীবন।
কেমন করে স্তব্ধ হল তোমার হৃদয়ের শব্দ?
বোবা বেদনার অগ্নিশলাকা বেঁধে
বুকের ভিতর দিন রাত অবিরত
কেটে যায় সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যে যত।
কেটে যায় আরো আরো বছরের
প্রতিটি মুহূর্ত, পল
তোমাকে ছাড়া।
তোমার জন্যই সব ছাড়া –
সব ছেড়ে ঝাঁপ দেওয়া,
তোমার জন্যই দীর্ঘ রাস্তা হাঁটার ভরসা,
তোমার জন্যই সন্ধ্যেবেলা নাটক দেখা,
তোমার জন্যই জীবনযুদ্ধের পাঠ নেওয়া,
তোমার জন্যই সবহারাদের চোখ চেয়ে দেখা,
তোমার জন্যই সারারাত সেতার, সরোদ শোনা,
তোমার জন্যই ঋত্বিক, মৃণাল আলোচনা করা।
আজও সব আছে –
সিনেমা, নাটক, গান, বই পড়া
তবু কিছু নেই... কিছু নেই...
শুধু কেটে যায় সব কটা দিন, রাত
তোমাকে ছাড়া।
গান তো গাইনি আমি কতদিন-ই
আঁকিনি ছবি, লিখিনি কিছুই
অভিমান জমা থাকে সব বুকের কোটরে
মাঝে মাঝে কেন যে চোখের জল ঝরে...
আর কতোদিন ভুলে থাকব এই চরম সত্য?
কাছে থাকো, পাশে থাকো
এ ঘরে, ও ঘরে থাকো
আমাদের দেখে রেখো আগেকার মতো।
থাকবে তো আমার পাশে
আগের মতো ঠিক?
সেই যখন প্রথম ভালবেসেছিলে?
ইতি তোমার টিপ।
২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০
Tuesday, March 16, 2010
যন্ত্রণার শব্দ
বইপাড়া, বইমেলা ঘুরে ঘুরে ফেরে ছেলেটি।
এবার জন্মদিনে বাবাকে চমকে দেবে উপহার দিয়ে
বই পেলে সব চেয়ে খুশি হন বাবা তার।
এ বই, ও বই – চষে ফেলে, পড়ে দেখে
পাতা উলটে, সূচিপত্র ঘাঁটে।
কোন বই সেই অদ্ভূত তৃপ্তির হাসিটি ফোটাবে
বাবার শান্ত গম্ভীর মুখে?
পড়তে শেখার আগে থেকে বাবার শোনানো
সেই সব গল্প মনে ঘোরে –
লিট্ল্ প্রিন্স, এন্শিয়েন্ট মেরিনার, সুকুমার রায়,
উপেন্দ্রকিশোর, হল্দে পাখির পালক,
লীলা মজুমদার – আরো কত কী...
খুঁজে খুঁজে তাই বই কিনে যায় ছেলেটি
আজ বাবাকে চমকে দেবে, আজ তুলে দেবে
তার পছন্দের এমন বই, যা
ফুটিয়ে তুলবে বাবার শান্ত মুখে সেই হাসি –
যার অপেক্ষায় সে এতোদিন ধ’রে বড় হয়েছে।
বাবার পছন্দসই বই হওয়া চাই।
কী বই? রাজনীতি, ইতিহাস বা সাহিত্যই
হ্যাঁ, বাবাই তো শিখিয়ে ছিলেন বাক্যরচনা
যা শুধু বাক্য নয়, যাতে থাকে সাহিত্যের দানা
রচনা লেখার হাত ধ’রে বাবার কাছে
গল্প লেখার মজা, ছন্দের কারিকুরি
বাবার কাছে তার ছবি আঁকা বিরাট বিস্ময়
জায়গা পেয়েছে কতবার দেওয়ালে
যেন সে পেয়েছে বড় শিল্পীর পরিচয়!
বাবার জন্মদিনে আজ দেবেই দেবে
সেই সেরা বইটি – ছেলেটি
মুচকি হেসে বলবে, ‘বাবা, তোমার প্রিয় উপহার’।
নীল হয়ে যাওয়া গভীর ক্ষত
সযত্নে লুকিয়ে রাখে
বুকের ভিতর ছেলেটি
বোবা বেদনার অগ্নিশলাকা বেঁধে তিক্ষ্ণ শব্দে,
‘বাবা, তুমি কি এখনও ঐ ছবির ফ্রেমেই আটকে থাকবে?
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০
বিদায় বোলোনা বন্ধু
আজ সমাগত তোমার বিদায়ক্ষণ -
বিদায় বোলোনা বন্ধু,
বল নব কর্মক্ষণ;
বিদায় তো তখনই, যখন কর্ম শেষ
তাকিয়ে দেখ, বিশ্বভরা কর্ম অনিঃশেষ।
এ যাওয়া নয় তো যাওয়া,
এ শুধু এ ঘাট ও ঘাট তরী বাওয়া,
এ বিদায় নয় তো বিদায়,
এ শুধু এই ঘাটের সব কাজ সারা।
এই ঘাটে কাটালে অনেকগুলো দিন –
এতো কথা, এতো গান হবেনা বিলীন,
কন্যাসমা ছাত্রীদের হাসিভরা মুখ
চিরকাল মনের আয়নায় থাকবে জাগরুক।
এই ঘাটে হৈচৈ বড় কলরব
এই ঘাটে কাজের ভিড়ে হারায় মনোযোগ
ক্লাস থেকে ক্লাস নিয়ে মেলেনা সময়
খাতা থেকে মুখ তুলে দৃষ্টি বিনিময়।
তবু তার মাঝে বলেছি কত দুঃখসুখের কথা -
এখন মোছাবে কে আর সে গোপন ব্যাথা।
ওই ঘাটে আছে যেন বিশ্রামের ছায়া
শান্তমনে ধ্যান কর পরমপিতার কায়া।
বন্ধু সব আজ যারা, থাকব তোমার পাশে,
ক্লান্তি ভুলে মন ভ’রে আনন্দে যাও ভেসে।
[দিপালিদি’র ফেয়ারওয়েল উপলক্ষে লেখা]
৪ঠা জানুয়ারি, ২০১০
বিদায় বোলোনা বন্ধু,
বল নব কর্মক্ষণ;
বিদায় তো তখনই, যখন কর্ম শেষ
তাকিয়ে দেখ, বিশ্বভরা কর্ম অনিঃশেষ।
এ যাওয়া নয় তো যাওয়া,
এ শুধু এ ঘাট ও ঘাট তরী বাওয়া,
এ বিদায় নয় তো বিদায়,
এ শুধু এই ঘাটের সব কাজ সারা।
এই ঘাটে কাটালে অনেকগুলো দিন –
এতো কথা, এতো গান হবেনা বিলীন,
কন্যাসমা ছাত্রীদের হাসিভরা মুখ
চিরকাল মনের আয়নায় থাকবে জাগরুক।
এই ঘাটে হৈচৈ বড় কলরব
এই ঘাটে কাজের ভিড়ে হারায় মনোযোগ
ক্লাস থেকে ক্লাস নিয়ে মেলেনা সময়
খাতা থেকে মুখ তুলে দৃষ্টি বিনিময়।
তবু তার মাঝে বলেছি কত দুঃখসুখের কথা -
এখন মোছাবে কে আর সে গোপন ব্যাথা।
ওই ঘাটে আছে যেন বিশ্রামের ছায়া
শান্তমনে ধ্যান কর পরমপিতার কায়া।
বন্ধু সব আজ যারা, থাকব তোমার পাশে,
ক্লান্তি ভুলে মন ভ’রে আনন্দে যাও ভেসে।
[দিপালিদি’র ফেয়ারওয়েল উপলক্ষে লেখা]
৪ঠা জানুয়ারি, ২০১০
বন্ধুতার খোঁজে
ব্যাথা জমে জমে পাহাড় হয়ে গেছে।
পাহাড় ভেঙেও তো ঝর্ণা নামে,
সে ঝর্ণায় কোন মলিনতা নেই,
স্বচ্ছ, সাদা, শীতল।
ছুটে ছুটে ঘেমে ঘেমে আমি
কোদাল চালাই,
ক্লান্তি নিয়ে গেয়ে বেড়াই
পাথর ভাঙার গান;
যদি সেই ঝর্ণা নামে –
স্বচ্ছ, সাদা, শীতল।
অস্ত্র শান দেয় চারিদিক
খাপে ঢাকা থাকে তার ধার
কাটলে কাটবে, দেব জীবন
বন্ধুতার খোঁজ -যা হবে
স্বচ্ছ, সাদা, শীতল।
বন্ধু তোমার ডাক শুনেছি –
আনন্দের
বন্ধু তোমার গান শুনেছি –
সখ্যতার
বন্ধু তোমার হাত ধরেছি
বন্ধুতার -
স্বচ্ছ, সাদা, শীতল।
[সমাপিকাদি’র ফেয়ারওয়েল উপলক্ষে লেখা]
২রা মে, ২০০৬
Subscribe to:
Posts (Atom)