বৃষ্টিভেজা ময়দানে হেঁটেছিলাম,

পাশাপাশি দুজনে

মাঝরাতে কৌঁশি কানাড়া, টোড়ি,

পাশাপাশি দুজনে।

সত্যজিৎ, ঋত্বিক, মৃণাল দেখে

ফিরেছি চিনেবাদাম হাতে,

বইপাড়া, যাদুঘর, আকাদেমির নাটক

ব্রিটিশ কাউন্সিল বা জু-তে

হাতে হাত রাখিনি, চোখে চোখ,

তবু সব কথা রেখেছিলে।

কথা তো বলেনি ঠোঁট

বলেছে হৃদয়, চোখ...

উত্তর লেখা হয়ে রয়েছে সব

গভীর গোপন বুকে

অনুভবে গান, অনুভবে প্রাণ

ভালোবাসা ভালোবাসা বলে লোকে।

সব কথা রেখেছিলে, অথবা

রাখোনি ওটুকু, আরো বেশি ভেবেছিলে

জ্বর ছিল, ঘাম ছিল, পথশ্রম, তবু

এক পায়ে আপেক্ষা করেছিলে।

দমকা কালবৈশাখী ঝড়

উথালপাথাল ঢেউ...

ছেলেবেলার শিরশিরে ভয়

পরীক্ষার আগে যেমন তেমন!

না চেনা অসুখ, না জানা কামড়

বোবা বিহ্বলতা, ঘিরে থাকা ঘোর-

আকুলি বিকুলি যন্ত্রণা,

হতচকিত, অসহায় বিস্ময়

কী কষ্টে ভাষাহীন চোখ তোমার!

কথা তুমি রাখোনি -

কথা তুমি রাখোনি

কথা তুমি... ।

n সংঘমিত্রা, ৩রা মে, ২০০৮

বন্ধুর পথ জানিনি কখনও
বন্ধুর পথে হাঁটিনি
তবুও সে পথ জীবনে এলো।
স্কুলের পরীক্ষায় কঠিন প্রশ্নের উত্তর লিখতে বেছে নিতাম
সবার থেকে আলাদা হবে ব’লে।
তাই কি এবারও বেরিয়ে এলাম কঠিন পথের আকর্ষণে!

বন্ধুর পথের চড়াই উতরাই
সাহস নিয়ে হেঁটেছি, পেয়েছি শক্তি
পথের কষ্টের কথা ভুলে গেছি
মনে আছে শুধু পার হওয়ার আনন্দ।

পেলব জীবন টানেনি কখনও
টেনেছে কোনির লড়াই
তাই প্রাণ ভ’রে দম নিয়ে নিয়ে
উঠেছি জীবনের চড়াই।

বন্ধুর পথ দুর্গম হয়নি
ছিল সে যখন পাশে
পথের পাশের ফুলেরা সব
রডোডেনড্রন হ’য়ে হাসে।

হাঁফ ধ’রে আসা বন্ধুর পথে
নিয়েছি পভীর নিশ্বাস –
হাত বাড়ালেই পেয়েছি যে তার
বলিষ্ঠ হাতের আশ্বাস।

বন্ধুর পথে হেটেছি অনেক
পিছিয়ে যাইনি ভয়ে
আজ মনে হয় আরো চড়াই
দম যাবে না তো ফুরিয়ে?

সাথী আজ সাথে তো নেই
সামনে আছে দুস্তর পথ –
শ্রান্ত হয়ে পড়ে যদি যাই
কোথা পাব আর দৃঢ় সে হাত?

কারা পড়ছে এই ব্লগ

Tuesday, March 23, 2010

এই আমার ইস্কুল

এই আমার ইস্কুল, এই আমার বাড়ি
এইখানে খেলা তোমাদের ভাব-ভাব, আড়ি-আড়ি।
এই গেট, এই মাঠ, এই করিডোর
আমাকে চেনে এ বাড়ির সঅব ক’টি ঘর।
ফুলের বাগান নেই, তবু নারকেল, আম, দেবদারু
দু’ধারে আছে অর্জুন আন্দ কৃষ্ণচুড়া তরু।
সবুজ ঘাসের উপর দোয়েল, চড়ুইয়ের ওড়াওড়ি –
এই মাঠে খেলা ওদের ভাব-ভাব, আড়ি-আড়ি।

তিনতলার ক্লাস টেন-এ, কবিতার ক্লাসে
চোখ পড়ে জানলার পাশে শিমুলের ডালে
পাখির বাসায় কিচমিচ, জানলা দিয়ে উঁকি
পাখির ছানা দেখতে গিয়ে পড়াশুনো ফাঁকি
ঝমঝমে বৃষ্টি এঁকে দেয় চমৎকার ছবি
চোখ থাকলে হতে পার প্রকৃতির কবি।
বসন্তে যখন কোণের কৃষ্ণচূড়া লাল ধ্বজা ওড়ায়,
বাগানে গেয়ে ওঠে কোকিল –
মন উন্মনা হয়ে যায়...
মেয়েদের পড়াতে পড়াতে একেবারে ভুলিনা
কংক্রিট শহরের ধারে থেকে
এ আমাদের কতো বড়ো পাওনা।
এই আমার ইস্কুল, আমার আনেক কালের বাড়ি
এইখানে রোদ বৃষ্টি খোলাহাওয়ার জড়াজড়ি।

পরীক্ষার হলে ডিউটি দিতে দিতে
যখন সুযোগ মেলে স্কুলের মাঠ,
গাছপালা তাকিয়ে দেখার,
তখনই একদিন দেখি দুটো উজ্জ্বল নীল রঙের
কাঠঠোকরা পাখি
গাছে মাঠে উড়ে উড়ে লুকোচুরি খেলছে।
আবার একদিন বৃষ্টিভেজা মাঠের মধ্যে দিয়ে
এঁকেবেঁকে চ’লে গেল দাঁড়াশ সাপ
কাউকে কিছু না ব’লে
রোদ চকচকে বিকেলে
ঘাসে পাতায় জলে।
এই আমার ইস্কুল সহজ সবুজে ঘেরা সুন্দর
এইখানে প্রাণভ’রে শুনি মেয়েদের কলরব।

একবার এত আমের মুকুল হল,
ক্লাস নাইনের বারান্দা গন্ধে ম’ম’
অপূর্ব গন্ধে মন মাতাল –।
আবার একদিন বিকেলের কালবৈশাখীতে
কালো ঝড়ে নেমে ইস্কুলের উঠোনে
ঢুপঢাপ আম পড়ে, কুড়িয়ে নে!
এ কোন আনন্দ, এ কোন দেশ?
এ আমার ইস্কুল, ভালো লাগে বেশ।

মেয়েদের হুড়োহুড়ি, মেয়েদের বকাঝকা,
মেয়েদের হাসিমুখ, মেয়েদের ব্যাথা,
মেয়েদের খেলাগান, মেয়েদের উচ্ছলতা,
অভিমানে জল-চোখ, শাস্তি পাওয়া,
তবু হাসি নিষ্পাপ, দিদিমনি বলা –
অরাই রেখেছে সুন্দর ক’রে আমার জীবন চলা।
এই আমার ইস্কুল, এইখানে রোজ আসা-যাওয়া
ইংলিশ মিস হ’য়ে অনেক অনেক কিছু পাওয়া।।

৫ই মে, ২০০৮

4 comments:

  1. eta porte porte chokher shamne schooltake ar kobitay lekha ghatonaguloke spashto dekhte pachhi. bhari shundar.

    ReplyDelete
  2. এটা আমার সবচেয়ে প্রিয়।

    ReplyDelete
  3. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete
  4. Khub nostalgic hoye porchi ei kobitata porte porte....school er katha khub mone porche,r sei sathe miss apnader sobai k r amar bandhuder k.

    ReplyDelete